News Ticker
221.png

নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৩৬

শেয়ার

শেয়ার

নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার, ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানটি আগের সীমিত হামলাগুলোর তুলনায় অনেক বিস্তৃত হতে পারে। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন অভিযানের পরিধি আগের মতো শুধু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র, রাডার ও দ্রুত পুনর্গঠনযোগ্য সামরিক সরঞ্জামে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিয়ে কাজ করছেন। তালিকায় সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, সম্ভাব্য অভিযানটি হবে বড় পরিসরের। তবে ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, কত দিন অভিযান চলতে পারে কিংবা এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। 

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দেননি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

পেন্টাগনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের নির্দেশে প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন সামরিক বিকল্প তৈরি ও প্রস্তুত রাখা। অর্থাৎ সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকার অর্থ এই নয় যে হামলার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে এটিও নিশ্চিত সময়সূচি নয়। ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন বলেও কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি ইসরায়েলের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সমর্থন চেয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালাতে। তবে মার্কিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন না দিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও সময় নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়।

ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে সামরিক অভিযানের সময় নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, এ সময়ে হামলা হলে ইরানের পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত কিছু খবর অস্বীকার করেছেন। ফলে সম্ভাব্য যৌথ অভিযানের সময়সূচি ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে ইরান পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা, সামরিক স্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর অবকাঠামো সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইরানও সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তেলের দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে।

ChannelNRB Footer