News Ticker
221.png

যুক্তরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় বোয়েলের আঘাতে নিহত ২, বিদ্যুৎবিহীন ৯০ হাজার বাড়িঘর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৩

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় বোয়েলের আঘাতে নিহত ২, বিদ্যুৎবিহীন ৯০ হাজার বাড়িঘর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে শক্তিশালী ঝড় স্টর্ম বোয়েলোর আঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়া, আকস্মিক বন্যা, সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিঘ্ন এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেশটির প্রায় ৯০ হাজার বাড়িঘর ও গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা জানানো হয়। এর আগে ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে কয়েক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজ অ্যান্ড গ্যালোওয়ে এলাকায় ঝড়ের সময় গাছের নিচে চাপা পড়ে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

একই দিন উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলিতে গাড়ি চালানোর সময় তাঁর গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লে বিশের কোঠায় বয়স এমন আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া স্কটল্যান্ডের অ্যাবারফেল্ডিতে গাছের আঘাতে দুই নারী আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ার পাশাপাশি উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

ঝড় বোয়েলোর প্রভাবে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় প্রায় ৮৪ মাইল বা ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাসের ঝাপটা রেকর্ড করা হয়। স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ছিল।

প্রবল বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের মতো পরিস্থিতি, জলাবদ্ধতা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্টর্ম অস্টেনের আঘাতে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে ঝড়ো আবহাওয়া দেখা দেয়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি ঝড় আঘাত হানায় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ে। 

প্রবল বাতাসে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এনার্জি নেটওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দুই ঝড়ের প্রভাবে মোট প্রায় ৭ লাখ থেকে ৮ লাখের বেশি গ্রাহক কোনো না কোনো সময় বিদ্যুৎ সংযোগ হারান।

২৬ অক্টোবরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক তখনো বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। পরে একই দিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সংখ্যা কমে প্রায় ৩৬ হাজারে নেমে আসার কথা জানানো হয়।

প্রবল বাতাস অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো মেরামত করতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগে বিলম্ব ঘটে।

ঝড়ের প্রভাবে স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ও উপকূলীয় এলাকায় রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কিছু এলাকাতেও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

রেললাইনে গাছ পড়া, রেলপথে পানি জমে যাওয়া এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে একাধিক রেলসেবা ব্যাহত হয়। কিছু রুটে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয় এবং কয়েকটি রেলপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এ ছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। সড়কে গাছ ও বিদ্যুতের তার পড়ে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডের কয়েকটি প্রধান সড়কেও চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করতে বলা হয়।

স্টর্ম বোয়েলোর তীব্রতা কমতে শুরু করলেও আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েকটি অঞ্চলে শক্তিশালী বাতাসের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম উপকূলের উন্মুক্ত এলাকায় ঘণ্টায় ৬৫ মাইল পর্যন্ত এবং স্কটল্যান্ডের উত্তরে কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ মাইল পর্যন্ত বাতাসের ঝাপটা হতে পারে। ভারী বৃষ্টি, নতুন করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বন্যা এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কাও জানানো হয়।

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ, উপকূলের বিপজ্জনক স্থান এড়িয়ে চলা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছে। 

ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ এবং যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

ChannelNRB Footer