News Ticker
221.png

মৃত্যুর পর নিজের দেহ দিয়ে জৈব সার তৈরির ইচ্ছা হলিউড অভিনেত্রী নোভাকের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৬

শেয়ার

শেয়ার

মৃত্যুর পর নিজের দেহ দিয়ে জৈব সার তৈরির ইচ্ছা হলিউড অভিনেত্রী নোভাকের
ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর পর নিজের দেহকে জৈব সারে পরিণত করার ব্যতিক্রমী ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী কিম নোভাক। ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী চান, মৃত্যুর পর তাঁর দেহ থেকে তৈরি হওয়া মাটি ব্যবহার করে প্রিয়জনেরা গাছ লাগাবেন। সেই গাছের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মাঝে নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সম্প্রতি ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মৃত্যুর পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন নোভাক। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রেখেছেন। প্রচলিত সমাধি কিংবা দাহের পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন ‘ন্যাচারাল অর্গানিক রিডাকশন’ (Natural Organic Reduction) নামের একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মানবদেহকে মাটির মতো জৈব উপাদানে রূপান্তর করা হয়।

কিম নোভাকের কাছে এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া এবং মৃত্যুর পরও জীবনের ধারাবাহিকতার অংশ হয়ে থাকা। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেহ থেকে তৈরি হওয়া জৈব উপাদানের কিছু অংশ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হবে। তাঁরা সেই মাটি ব্যবহার করে গাছ কিংবা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ রোপণ করবেন। তবে নোভাকের পছন্দ গাছ।

সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী জানান, গাছের মধ্য দিয়ে তিনি মৃত্যুর পরও বেড়ে উঠতে চান। তাঁর কাছে এটি জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং প্রকৃতির মধ্যে নতুনভাবে যুক্ত হওয়ার একটি সুযোগ।

নোভাকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছের বেড়ে ওঠার জন্য ধৈর্য প্রয়োজন। নিজের জীবনে ধৈর্যের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, গাছের মধ্য দিয়ে সেই ধীর, স্থির ও দীর্ঘস্থায়ী বিকাশের অংশ হয়ে থাকা তাঁর কাছে এক সুন্দর অভিজ্ঞতা হবে। এই ভাবনা তাঁকে মানসিক প্রশান্তিও দিয়েছে বলে জানান তিনি।

মৃত্যুর পর প্রচলিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পদ্ধতিগুলো তাঁর কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন নোভাক। মাটির নিচে সমাহিত হওয়া কিংবা দেহকে ছাইয়ে পরিণত করার পরিবর্তে তিনি মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার ধারণাটিকে বেশি পছন্দ করেন।

তাঁর মতে, মানুষ মৃত্যুর পর কীভাবে বিদায় নিতে চান, সেটি নিয়ে ভাবার সুযোগ রয়েছে। প্রকৃতির অংশ হয়ে থাকার এই পরিকল্পনাকে তিনি অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখেন না; বরং জীবনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করেন।

নিজের জৈব সারে কোন ফুলের বীজ বা উপাদান যুক্ত থাকবে, সে বিষয়েও পছন্দ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর পছন্দ ‘ফরগেট-মি-নট’ (Forget-me-not) ফুল। নামের মধ্যেই স্মৃতি ও মনে রাখার যে তাৎপর্য রয়েছে, তা তাঁর মৃত্যুর পরও স্মরণীয় হয়ে থাকার ভাবনার সঙ্গে মানানসই।

নোভাক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। তবে তাঁর দেহকে জৈব সারে রূপান্তরের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘আর্থ ফিউনারেল’ (Earth Funeral) প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ফক্স নিউজ ডিজিটাল জানিয়েছে।

মানবদেহকে জৈব উপাদানে রূপান্তরের এই পদ্ধতিকে ‘ন্যাচারাল অর্গানিক রিডাকশন’ বলা হয়। এতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রাকৃতিক পচনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহকে মাটির মতো উপাদানে পরিণত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে এই পদ্ধতি আইনগতভাবে অনুমোদিত হলেও সর্বত্র এর সুযোগ নেই। নোভাকের পরিকল্পনায় তাঁর দেহ পরিবহনের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অভিনেত্রীর আশা, তাঁর মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া জৈব উপাদান দিয়ে একাধিক স্থানে গাছ লাগানো হবে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন গাছের মধ্য দিয়ে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন।

কিম নোভাক হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী। আলফ্রেড হিচককের ১৯৫৮ সালের মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ভার্টিগো (Vertigo) ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ পরিচিতি পান। জেমস স্টুয়ার্টের বিপরীতে তাঁর অভিনয় চলচ্চিত্রটির জনপ্রিয়তার অন্যতম আকর্ষণ ছিল।

এ ছাড়া পিকনিক (Picnic), দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন আর্ম (The Man with the Golden Arm), পাল জোয়ি (Pal Joey) এবং বেল, বুক অ্যান্ড ক্যান্ডেল (Bell, Book and Candle)-এর মতো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।

১৯৬০-এর দশকে হলিউডের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে সরে ব্যক্তিগত জীবন ও চিত্রকলায় মনোযোগ দেন নোভাক। অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি আঁকা তাঁর আত্মপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এবং প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্প্রতি প্রাণী অধিকারবিষয়ক সংগঠন পেটা (PETA)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও নিজের জীবন, প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

নোভাকের এই পরিকল্পনা কেবল প্রচলিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিকল্প বেছে নেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রকৃতির প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের অনুরাগ। মৃত্যুর পরও গাছের বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে জীবনের ধারাবাহিকতার অংশ হয়ে থাকতে চান তিনি।

তাঁর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে মানবদেহ থেকে তৈরি জৈব উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্যবিধি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলা জরুরি।

৯৩ বছর বয়সেও নিজের জীবনদর্শন ও মৃত্যুর পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন কিম নোভাক। তাঁর কাছে মৃত্যুর পরের অধ্যায়টি ভীতিকর কোনো সমাপ্তি নয়; বরং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে নতুন জীবনের বিকাশে অংশ নেওয়ার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

ChannelNRB Footer