থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ফুকেট দ্বীপে আকস্মিক বন্যায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতভর ভারী বৃষ্টির পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে প্রায় ১০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা।
ফুকেটের তিনটি জেলাতেই বন্যার প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে দ্বীপটির প্রধান শহর ফুকেট সিটিও রয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে সড়ক ও বসতবাড়ির আশপাশ প্লাবিত হয়েছে।
ফুকেটের উপ-গভর্নর রোমডন হাইয়াওয়ে জানিয়েছেন, সোমবার সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করে। তবে নিচু এলাকাগুলোর কয়েকটি এখনো পানির নিচে রয়েছে। এ কারণে ছোট যানবাহন চালকদের এসব সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাতভর বৃষ্টিতে ডুবেছে সড়ক ও বসতবাড়ি
হঠাৎ বন্যায় ফুকেটের বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কের ওপর কাদা, পাথর ও অন্যান্য আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়।
নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকায় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ছোট গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কত—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্যার পাশাপাশি ফুকেটের কিছু এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সড়ক এবং পানি নিষ্কাশনের পথের ওপর জমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এসব ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। খাল ও নালা যাতে কাদা-পাথরে আটকে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদনে বন্যা ও ভূমিধসে কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ২৮ অক্টোবর, বুধবার পর্যন্ত ভারী ও একটানা বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ফুকেটসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে পানি দ্রুত নিচু এলাকায় জমে যায়। পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির স্থিতিশীলতা কমে গেলে ভূমিধসের আশঙ্কাও বাড়তে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে—এমনটি বলার সুযোগ নেই। নতুন বৃষ্টিপাত হলে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আবারও পানি জমতে পারে।
ফুকেটের আকস্মিক বন্যা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান বন্যায় অন্তত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যা শুধু ফুকেটের নয়; দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক হিসাব।
এর আগে রাজধানী ব্যাংককসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। এতে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সচল রাখতে প্রশাসনকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়।
ফুকেট থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। সমুদ্রসৈকত, দ্বীপভ্রমণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে যান। কিন্তু বর্ষণজনিত বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পর্যটনকেন্দ্রটির বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ এবং পানি জমে থাকা এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:







