ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের থেনি জেলার একটি উপকারাগারে অসুস্থতার ভান করে কারারক্ষীদের কক্ষে ডেকে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেছেন ১৭ বন্দি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে থেক্কামপট্টি উপকারাগারে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে চারজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি ১৩ জনকে ধরতে রাজ্যজুড়ে অভিযান চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বন্দিদের একজনের মৃগীরোগের মতো খিঁচুনি হচ্ছে—এমন ভান করে কারারক্ষীদের সাহায্যের জন্য ডাকা হয়। কারারক্ষীরা তাঁদের কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে বন্দিরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের সন্ধানে বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়ক, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া ১৭ বন্দিই একই কক্ষে ছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের কয়েকজন কারারক্ষীদের জানান, এক বন্দি অসুস্থ হয়ে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে কারারক্ষীরা কক্ষের দরজা খুলে সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে বন্দিরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এরপর তাঁরা কারাগার থেকে পালিয়ে যান।
দক্ষিণাঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক বিজয়েন্দ্র বিদারি জানিয়েছেন, বন্দিরা অসুস্থতার ভান করে কারারক্ষীদের কক্ষে প্রবেশ করানোর পর তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্দিদের হামলায় তিন কারাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে থাঙ্গাপান্ডি নামের এক গ্রেড-২ পুলিশ কনস্টেবলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্য দুই কারাকর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেনি জেলার পুলিশ সুপার কে এস প্রবীণ গৌতমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারাগার পরিদর্শন করেন। কীভাবে এতজন বন্দি একসঙ্গে পালাতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ১৭ বন্দির মধ্যে চারজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রভিন কুমার, শিলাম্বারাসন, রাজা সিকান্দার ও রাজকুমার রয়েছেন।
বাকি ১৩ বন্দিকে গ্রেপ্তারে ১৭টি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। থেনি ছাড়াও মাদুরাই ও দিন্দিগুলসহ আশপাশের জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেরালার ইদুক্কি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দিন্দিগুল জেলায় ১৬টি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনগুলোতেও নজরদারি করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, পলাতক বন্দিদের কয়েকজন নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে তাঁদের ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
একসঙ্গে ১৭ বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে বন্দিদের পরিকল্পিতভাবে কারারক্ষীদের কক্ষে ডেকে আনার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে কারাগারের নিরাপত্তায় ঠিক কোথায় ত্রুটি ছিল এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
আরও পড়ুন:







