সুদানের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের নিয়ালা শহরে একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জনের বেশি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত প্রায় ৮টার দিকে শহরটির উত্তরাঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোনটি আঘাত হানে। হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সদস্য, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নিয়ালা হাসপাতালের এক চিকিৎসাকর্মী এএফপিকে জানান, সোমবার রাতের বোমা হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন আরএসএফের যোদ্ধা ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শহরটির উত্তরাঞ্চলের বাজারটি মূলত তরুণদের আনাগোনার জায়গা। সেখানে আরএসএফের সদস্যদেরও যাতায়াত ছিল বলে অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
তবে বাজারটিতে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু কারা ছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হামলার জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিয়ালা সুদানের দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী এবং দেশটির আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের অন্যতম প্রধান শক্ত ঘাঁটি। বাহিনীটি সেখানে নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। ক্ষমতা ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হওয়া এই লড়াই ক্রমেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষই এখন স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।
সুদানের সেনাবাহিনী নিয়মিত নিয়ালায় হামলা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে, আরএসএফও রাজধানী খার্তুমসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সর্বশেষ বাজারে হামলার জন্য কোন পক্ষ দায়ী, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সুদানে ড্রোন হামলার ধারাবাহিকতার মধ্যে রাজধানী খার্তুমের পশ্চিমে আল-মারখিয়াত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রেও মঙ্গলবার হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সুদান ইলেকট্রিসিটি কোম্পানির একটি সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, আরএসএফের ড্রোন হামলায় উপকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে খার্তুম ও আল-জাজিরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
এর আগের দিনও দেশটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। এসব হামলায় বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ফলে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ এবং জরুরি সেবাগুলো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে সুদানে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িঘর, বাজার, হাসপাতাল, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানির উৎসেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তারা সংঘাতের সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান সুদানের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।
ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিয়ালার বাজারে সর্বশেষ হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ী পক্ষ শনাক্ত করা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে।
আরও পড়ুন:







