News Ticker
221.png

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি দেখে শঙ্কায় নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৩৪

শেয়ার

শেয়ার

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি দেখে শঙ্কায় নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শিবিরের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সমর্থকদের দ্রুত ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে আরব ও বামপন্থী ভোটারদের বেশি উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশটিতে ভোট পড়েছে ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দিনের পরবর্তী সময়ে ভোটার উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর লাইভ প্রতিবেদনে সন্ধ্যায় ভোটার উপস্থিতি ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সারির খবরও পাওয়া গেছে।

ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকায় নেতানিয়াহু ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বিশেষ করে আরব ও বামপন্থী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, বিরোধী পক্ষের সমর্থকদের ভোটের হার বেড়েছে এবং নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভোট কারচুপি বা পরিকল্পিত অনিয়মের বিষয়ে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো সামগ্রিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের শিবির নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগাম প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে তিনি জনমনে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রমাণের ওপর।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রশ্ন শুধু কে সরকার গঠন করবে, তা নয়; বরং ২০২৩ সালের হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা, যুদ্ধ পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়েও ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার কথা।

নেতানিয়াহু তার সরকারের সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক পদক্ষেপকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতার জবাবদিহি এবং সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এ ছাড়া আরব-ইসরায়েলি ভোটারদের অংশগ্রহণও নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই জনগোষ্ঠীর ভোটের হার বাড়লে সংসদে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে ভোটের হার একাই কোনো জোটের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ধারণ করে না; দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট, সংসদীয় আসন এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোটের সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে কোনো শিবিরের জন্যই নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিত্র পাওয়া যায়নি। ফলে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের পাশাপাশি ছোট দলগুলোর আসন এবং জোট গঠনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি নেতানিয়াহুর জোটের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের ভোটের বণ্টন এবং শেষ পর্যন্ত পাওয়া আসনের ওপর। ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়া মানেই কোনো একটি পক্ষের জয় বা পরাজয় নিশ্চিত নয়।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ এবং পরবর্তী জোট আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তবে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নেতানিয়াহুর জরুরি আহ্বান এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব স্পষ্ট করে তুলেছে।

ChannelNRB Footer