News Ticker
221.png

মাটিতে হলুদ বিন্দু দেখে খোঁড়াখুঁড়ি, মিলল ২ কোটি টাকার স্বর্ণের টুকরো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

মাটিতে হলুদ বিন্দু দেখে খোঁড়াখুঁড়ি, মিলল ২ কোটি টাকার স্বর্ণের টুকরো
ছবি: সংগৃহীত

মাটির ওপর ছোট্ট একটি হলুদ বিন্দু। সেটি দেখেই কৌতূহলী হয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক শৌখিন স্বর্ণ অনুসন্ধানকারী। আর তাতেই মিলল প্রায় ১ দশমিক ২ কেজি ওজনের বিশাল এক স্বর্ণখণ্ড, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। বিরল এই স্বর্ণখণ্ডটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা গেলে দাম আরও বেড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হতে পারে।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত শহর টিবুবুরার কাছে মাউন্ট স্টুয়ার্ট স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ব্যতিক্রমী এই আবিষ্কারের ঘটনা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কয়েক দিন ধরেই এলাকায় স্বর্ণের সন্ধান করছিলেন। এ কাজে তিনি ব্যবহার করছিলেন মেটাল ডিটেক্টর বা ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র। তবে শুরুতে তার অনুসন্ধান তেমন সফল হয়নি।

স্বর্ণের বদলে বারবার যন্ত্রে সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল পুরোনো পেরেক, ঘোড়ার খুর এবং ব্যবহৃত সিসার গুলির মতো বিভিন্ন ধাতব বস্তু থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পরও মূল্যবান কিছু না পাওয়ায় অনুসন্ধানটি অনেকটাই হতাশাজনক হয়ে উঠেছিল।

এর মধ্যেই একদিন মাটির মধ্যে ক্ষীণ হলুদ আভা দেখতে পান তিনি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ওই জায়গার মাটি সরাতে শুরু করেন। প্রথম এক-দুই দফা মাটি সরানোর মধ্যেই গর্তের কেন্দ্রে উজ্জ্বল হলুদ বিন্দুটি চোখে পড়ে। পরে আশপাশের মাটি খুঁড়ে কোয়ার্টজ পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা বড় একটি স্বর্ণখণ্ড উদ্ধার করেন তিনি।

উদ্ধার করা স্বর্ণখণ্ডটির ওজন প্রায় ১ দশমিক ২ কেজি। তবে পুরো খণ্ডটিই খাঁটি স্বর্ণ নয়। এতে কোয়ার্টজসহ অন্যান্য খনিজ পদার্থ মিশে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৯৪০ গ্রাম বিশুদ্ধ স্বর্ণ রয়েছে।

শুধু ওজন ও স্বর্ণের পরিমাণ বিবেচনায় খণ্ডটির আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলারের আনুমানিক ১২২ টাকা বিনিময়মূল্য ধরলে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

তবে বিরল আকৃতি ও সংগ্রাহকদের আগ্রহের কারণে স্বর্ণখণ্ডটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা গেলে এর দাম ২ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, এসব মূল্যায়ন আনুমানিক। প্রকৃত বিক্রয়মূল্য নির্ভর করবে স্বর্ণের বাজারদর, বিশুদ্ধতা, নমুনাটির বিরলতা এবং ক্রেতার আগ্রহের ওপর।

বিরল এই স্বর্ণখণ্ডটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিবুবুরা স্পাড’ (Tibooburra Spud)। এর আলুর মতো আকৃতি এবং কোয়ার্টজের সঙ্গে মিশে থাকা স্বর্ণের গঠন এটিকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

সাধারণত স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীরা ছোট ছোট স্বর্ণকণা বা তুলনামূলক কম ওজনের খণ্ড খুঁজে পান। সে তুলনায় এক কেজির বেশি ওজনের এমন স্বর্ণখণ্ড পাওয়া অত্যন্ত বিরল। তাই এর মূল্য শুধু স্বর্ণের ওজনের ওপর সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; সংগ্রাহকদের কাছে এর আলাদা মূল্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুসন্ধানকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, স্বর্ণখণ্ডটির আকার বড় হলেও শুরুতে মেটাল ডিটেক্টরে খুব জোরালো সংকেত পাওয়া যায়নি। প্রায় ১০০ মিলিমিটার বা ১০ সেন্টিমিটার গভীরে যাওয়ার পর যন্ত্রটি জোরে সংকেত দিতে শুরু করে।

এরপর মাটি সরানোর একেবারে শুরুর দিকেই গর্তের মাঝখানে হলুদ বিন্দুটি দেখতে পান তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি, আর শেষ পর্যন্ত মেলে মূল্যবান স্বর্ণখণ্ডটি।

উদ্ধারের সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, লালচে মাটির ভেতর থেকে স্বর্ণখণ্ডটি তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন ওই ব্যক্তি। তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে স্বর্ণ অনুসন্ধান অনেকের কাছে শখের কাজ। কেউ কেউ অবসর সময় কাটানোর জন্য এ কাজে নামেন, আবার কেউ মূল্যবান স্বর্ণখণ্ড পাওয়ার আশায় প্রত্যন্ত এলাকায় অনুসন্ধান চালান।

তবে প্রতিবারই যে মূল্যবান কিছু পাওয়া যায়, তা নয়। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিংবা কয়েক দিন অনুসন্ধান করেও মেলে কেবল পুরোনো ধাতব বস্তু ও পরিত্যক্ত সামগ্রী। এই অনুসন্ধানকারীর ক্ষেত্রেও কয়েক দিন ধরে তেমন অভিজ্ঞতাই হচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত মাটির ওপর দেখা ক্ষুদ্র একটি হলুদ বিন্দু তার অনুসন্ধানের ফল বদলে দেয়। একটি ছোট্ট চিহ্ন থেকে পাওয়া যায় প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণখণ্ড, যা এখন বিরল আবিষ্কার হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

ChannelNRB Footer