ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও গাছপালা উপড়ে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষকে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রাথমিক সরকারি বক্তব্যে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। ফলে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লি, কাকিনাডা, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
কিছু ঘটনায় গাছ ভেঙে পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্য কয়েকটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের সময় গাছপালা উপড়ে পড়া ও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম-সংলগ্ন উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে প্রবেশ করে। আঘাত হানার সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
স্থলভাগে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করে। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও প্রতিবেশী ওডিশা রাজ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই রাজ্যের উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।
আগাম সতর্কতা ও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চালায় প্রশাসন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ভারী বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে পানি জমে এবং কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি ও ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সড়ক থেকে ভেঙে পড়া গাছ সরানো এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
ঝড়ের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম, ট্রেন চলাচল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব শুধু অন্ধ্রপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী ওডিশার বিভিন্ন এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলতে থাকে।
আরও পড়ুন:







