News Ticker
221.png

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ : নিহত বেড়ে ৬৮

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৭

শেয়ার

শেয়ার

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ : নিহত বেড়ে ৬৮
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে দ্রুতগতির দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু যাত্রী। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সেভিয়া শহরের দিকে যাওয়া দুটি উচ্চগতির ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একটি ট্রেন অন্য একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে পড়ে যায়। এতে ট্রেনের বিভিন্ন বগি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বহু যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তোলেদো প্রদেশের উরদা এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের (Renfe) পরিচালিত একটি ট্রেন এবং বেসরকারি রেল সংস্থা ইরিওর (Iryo) পরিচালিত আরেকটি ট্রেন জড়িত ছিল।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইরিওর ট্রেনটি রেললাইনে থেমে ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা রেনফের ট্রেনটি সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি বগি রেললাইনের পাশের ঢালে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

দুটি ট্রেনে সব মিলিয়ে প্রায় ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, হেলিকপ্টার ও জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।

কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর বা সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোর ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনার পাশাপাশি আরও মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ, ছিন্নভিন্ন ধাতব অংশ এবং লাইনচ্যুত বগির কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।

আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজ এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে রেলপথের একটি অংশে সংকেত ও কম্পিউটার যোগাযোগব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ওই অংশে কয়েকটি ট্রেন থেমে যায়। পরে রেনফের ট্রেনটিকে আবার চলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সামনে অন্য একটি ট্রেন থেমে থাকা অবস্থায় সেটিকে চলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, লাল সংকেত কার্যকর থাকা অবস্থায় ট্রেনটিকে চলতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্দোবা প্রদেশের আদামুজ এলাকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন।

বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটায় দেশটির রেলপথের নিরাপত্তা, সংকেতব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সরকার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে তিন দিনের জাতীয় শোক পালনের ঘোষণাও দেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর আরও পরিষ্কার হবে।

ChannelNRB Footer