ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ২৩৯ জন হুতি যোদ্ধা ও কমান্ডারকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। একই সময়ে হুতিদের ১১৭টি সামরিক যান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সামরিক মুখপাত্রের দাবি, সরকারি বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল হুতিদের কমান্ড সেন্টার, সুরক্ষিত সামরিক অবস্থান, গোলাবর্ষণের স্থান, সেনা ও অস্ত্রের রসদ সরবরাহের বহর এবং যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিবৃদ্ধির জন্য পাঠানো সেনাদল।
আল-নুজাইলির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের ফলে হুতিদের মাঠপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গোলাবর্ষণের সক্ষমতা কমানো এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে নতুন সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোর পথ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে ১১৭টি সামরিক যান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ বা স্বাধীন যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা প্রদেশসহ দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি বাহিনীর ভাষ্য, হুতিদের সামরিক অবস্থানে চাপ বাড়ানো এবং তাদের রসদ ও জনবল চলাচল সীমিত করাই এসব অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:







