ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে দেশটির অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এ সময় ঝড়টি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ছিল। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
নরসাপুরের কাছ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার সময় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। উপকূলীয় একাধিক জেলায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে যায় এবং নিচু এলাকায় পানি জমে যায়।
স্থলভাগে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। তবে এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি রাখে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও গাছ ভেঙে মানুষের ওপর পড়েছে, কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্ধ্র প্রদেশ সরকারের এক কর্মকর্তার বরাতে ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। তবে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডিটিভির পৃথক প্রতিবেদনে সাতজন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে অন্তত ১৫ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে অধিকাংশ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলেও কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরীসহ কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছিল।
ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। কিছু ট্রেন ও ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা সচল করতে জরুরি কর্মীরা কাজ করেন।
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর অন্ধ্র প্রদেশ ও প্রতিবেশী ওডিশা রাজ্যের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয় এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
আগাম সতর্কতা এবং সময়মতো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ফলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার হেক্টর কৃষি ও উদ্যান ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে ধান, কলা ও নারকেলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের জন্য রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:







