ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে যাত্রীবাহী ট্রেন স্টেশনে অবস্থান করার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে ড্রোনটি আঘাত হানে। সেখানে জাপোরিঝঝিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী ট্রেন। হামলার সময় প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকজন যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া জানায়, হামলার আগে ওই এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন।
প্রাথমিকভাবে হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছিল। পরে হতাহতের সংখ্যা হালনাগাদ করে কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ১৪ জনের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের আশপাশে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহৃত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে হামলার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ।
তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার পক্ষে অবস্থান জানান তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দেশটির রেল যোগাযোগব্যবস্থা বারবার হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইউক্রেনের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য ও জরুরি সরঞ্জাম পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
রুশ ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ইউক্রেনের বিভিন্ন রুটে ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির বেসামরিক পরিবহনব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
দিনিপ্রোর রেলস্টেশনে সর্বশেষ হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা চলছে। তবে এ হামলার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:







