ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবা, চাচা ও ছেলে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে শহরের সাদাতগঞ্জ এলাকার ব্রাহ্মণী টোলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গাড়ি পার্কিং এবং একটি বটগাছের নিচে ধর্মীয় স্থাপনার জন্য মঞ্চ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত প্রতিবেশী পিস্তল দিয়ে গুলি চালালে তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন শিবাজি তিওয়ারি (৬২), তাঁর ভাই শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) এবং শিবাজির ছেলে সুয়াশ তিওয়ারি (৩০)।
শিবাজি উত্তর প্রদেশ সচিবালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর ভাই শিবেন্দ্র লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। আর সুয়াশের একটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবসা ছিল।
ঘটনার দিন সকালে গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পিস্তল বের করে গুলি চালান।
পুলিশ জানায়, শিবাজি ও শিবেন্দ্র ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গুরুতর আহত সুয়াশকে কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেজিএমইউ) ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রিশভ শুক্লা (৩০) একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি আগে মার্চেন্ট নেভিতে কাজ করতেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুলির ঘটনার পর অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেননি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই তাঁকে আটক করে এবং পরে গ্রেপ্তার দেখায়।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের একপর্যায়ে অভিযুক্ত বাড়ির ভেতরে গিয়ে পিস্তল নিয়ে ফিরে এসে গুলি চালান।
প্রাথমিকভাবে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের কথা সামনে এলেও তদন্তে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার একটি পুরোনো বটগাছের চারপাশে স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে পাকা বেদি বা ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। ওই বটগাছের নিচে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত প্রার্থনা করতেন।
নির্মাণকাজের পক্ষে ছিল তিওয়ারি পরিবার। অন্যদিকে শুক্লা পরিবারের সদস্যরা এর বিরোধিতা করছিলেন। এ নিয়ে গত দুই মাস ধরে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এ ছাড়া গাড়ি কোথায় পার্ক করা হবে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
একটি ভিডিওতে অভিযুক্তকে গুলি চালানোর পর নিজেকে আত্মরক্ষার অবস্থানে ছিলেন বলে দাবি করতে শোনা যায়। তবে ভিডিওর বক্তব্য অভিযুক্তের দাবি মাত্র; ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:







