News Ticker
221.png

শনিবারের বিক্ষোভ সামাল দিতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করছে ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৭

আপডেট: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫১

শেয়ার

শেয়ার

শনিবারের বিক্ষোভ সামাল দিতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করছে ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। হ্যালোইন উৎসবের দিনেই নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফরাসি প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এ ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ৩১ অক্টোবর দেশটির জনশৃঙ্খলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দিন হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা ও জেন্ডারমেরি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গত সপ্তাহের বিক্ষোভেও একই সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার সন্ধ্যা ৮টার দিকে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও জমায়েতের আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আহ্বানের কিছুতে বিপ্লব ও বিদ্রোহের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

নুনেজের ভাষ্য অনুযায়ী, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কিছু কট্টরপন্থী অংশ এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব জমায়েত থেকে সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো নিষিদ্ধ করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ জমায়েত করলে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হবে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

প্যারিসসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথে তল্লাশি জোরদার করা হবে।

নিরাপত্তা জোরদারে সাঁজোয়া যান, জলকামান এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাও বাড়ানো হবে।

তবে প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকার বহাল থাকবে।

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষার পরিবেশের অবনতি এবং শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রথমে আন্দোলনে নামে।

পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকরাও নতুন করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়।

এরপর ২৪ অক্টোবর আবারও দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সেদিন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

সেদিন দিনের অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর প্যারিস ও মার্সেইসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

এর আগে ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়ে ফ্রান্সে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের চারজন বিশেষজ্ঞ সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের বক্তব্য, বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক ও হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা এবং বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে ফরাসি সরকার বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমাল ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও পুলিশের দায়িত্ব।

ChannelNRB Footer