News Ticker
221.png

স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় নিহত ২০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৩

আপডেট: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫১

শেয়ার

শেয়ার

স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় নিহত ২০
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের একটি এলাকায় স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে। সেখানে একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

আলাদা হামলায় চেরনিহিভ, ক্রেমেনচুক ও রাজধানী কিয়েভেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এসব হামলাকে বেসামরিক মানুষের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় নিহতদের মধ্যে দিনিপ্রোর ১৪ জন ছাড়াও চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুকে পাঁচজন এবং কিয়েভে একজন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে একটি জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানে। ওই সময় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

হামলায় স্টেশন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উক্রজালিজনিতসিয়ার তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল।

এ ছাড়া দিনিপ্রো শহরের একটি শিক্ষার্থী আবাসিক ভবনেও হামলা হয়। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। হামলার কারণে শহরটির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দিনিপ্রোর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ শহরেও ড্রোন হামলায় দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ব্যস্ত সড়কে চালানো ওই হামলায় আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মধ্য ইউক্রেনের ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে তিনটি পৃথক হামলায় যাত্রীবাহী বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন।

রাতের দিকে রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন। শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুদামে আগুন লাগে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরকে ঘিরে ছয় দিনের একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য হলো অবরুদ্ধ এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইচ্ছুক বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।

যুদ্ধবিরতির আওতায় এলাকাটিতে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য মাইন অপসারণের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দুই পক্ষ জানিয়েছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি পুরো ইউক্রেনে কার্যকর নয়। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩০ অক্টোবর ওলেশকি এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেতস্কি রুশ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর এসব হামলার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও বৃহস্পতিবারের হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও পরিকল্পিত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়ার আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছে।

এ অবস্থায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একদিকে সীমিত পরিসরে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চললেও অন্যদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়কে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।

ChannelNRB Footer