News Ticker
সর্বশেষ
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, গর্ভবতী নারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য নির্ধারিত মেডিকেল পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন তাহসিফ হত্যা মামলায় ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপের ৪ দিনের রিমান্ড এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, কার্যকর নভেম্বর থেকে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় নিহত ২০
221.png

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, গর্ভবতী নারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭

শেয়ার

শেয়ার

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, গর্ভবতী নারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বাড়ছে তাপমাত্রা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘ হচ্ছে তাপপ্রবাহ, বাড়ছে তীব্র দাবদাহের ঘটনা। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকলে গর্ভবতী নারীদের অকাল প্রসব, মৃত সন্তান জন্ম এবং গর্ভকালীন নানা জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নানা শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বাইরে অতিরিক্ত গরম থাকলে এই চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে মা ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়ার সঙ্গে গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকা গর্ভবতী নারীদের নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মেক্সিকোর লাখ লাখ জন্মসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে থাকলে অকাল প্রসবের হার সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

অকাল প্রসব বলতে গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই শিশুর জন্ম হওয়াকে বোঝায়। এ ধরনের শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস, মস্তিষ্কের বিকাশ ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে গর্ভবতী নারীদের পানিশূন্যতা, শারীরিক দুর্বলতা এবং রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষক দর্শনিকা লাখু ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার সঙ্গে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা মায়ের শরীরে শারীরবৃত্তীয় চাপ তৈরি করে। এর প্রভাব গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর কাছে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় পড়তে পারে।

তবে সব অঞ্চলে ঝুঁকির মাত্রা এক নয়। মায়ের শারীরিক অবস্থা, গর্ভাবস্থার সময়কাল, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগের ওপরও ঝুঁকি নির্ভর করে।

২০২৬ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে অকাল প্রসব, মৃত সন্তান জন্ম এবং প্লাসেন্টা-সংক্রান্ত জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে।

আমেরিকান ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের প্রকাশিত গবেষণা পর্যালোচনা অনুযায়ী, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির সঙ্গে অকাল প্রসব ও মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকি প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত নেচার কমিউনিকেশনসের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৪ কোটির বেশি পর্যবেক্ষণভিত্তিক নমুনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণাটিতে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে প্রতিকূল গর্ভকালীন ও জন্মসংক্রান্ত ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রার প্রভাব অঞ্চল ও আবহাওয়ার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট একটি তাপমাত্রাকে বিশ্বের সব গর্ভবতী নারীর জন্য একই ঝুঁকির সীমা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

তীব্র গরম শুধু মায়ের শরীরেই নয়, গর্ভের শিশুর শরীরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় ২৭টি গবেষণার ২ লাখ ১ হাজার ৯০৬ জন গর্ভবতী নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় তাপের সংস্পর্শে আসার পর মায়ের হৃদস্পন্দন ও শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্রূণের হৃদস্পন্দনেও পরিবর্তন দেখা গেছে।

গবেষণায় বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভফুল ও জরায়ুর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

এতে অনাগত শিশুর কাছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানোর প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও), ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) যৌথভাবে একটি বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো চালু করে।

এর লক্ষ্য হলো, তাপপ্রবাহের কারণে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি শনাক্ত করা এবং দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করা।

এ উদ্যোগে অকাল প্রসব, মৃত সন্তান জন্ম, কম ওজনের শিশু জন্ম, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত গরমের সময় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তাপপ্রবাহের সময় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও প্রস্তুত রাখা, আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনকে এতদিন মূলত পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনীতির সংকট হিসেবে দেখা হলেও এখন এর স্বাস্থ্যগত প্রভাবও সামনে আসছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের ওপর অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতা দিয়ে এ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ।

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই মা ও শিশুর নিরাপত্তায় এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা।

ChannelNRB Footer