News Ticker
221.png

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১১

শেয়ার

শেয়ার

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫ হাজার ২৬ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বে নথিভুক্ত ইবোলা মহামারিগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দ্বিতীয় প্রাণঘাতী।

কঙ্গোর মোট ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটি প্রদেশে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত প্রদেশগুলো হলো—হাউত-উয়েলে, ইতুরি, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, বাস-উয়েলে, তশোপো, দক্ষিণ উবাঙ্গি ও উত্তর উবাঙ্গি।

এসব অঞ্চলের মধ্যে ইতুরি ও উত্তর কিভুতে সংক্রমণের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে সমস্যা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সীমিত সক্ষমতা এবং সময়মতো রোগী শনাক্ত করতে না পারায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠেছে।

এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরন হলো ‘বান্দিবুগিও’ (Bundibugyo)। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা নেই। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা ও সহায়ক সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখা এবং সংক্রমিতদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার কমানো সম্ভব। তবে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া এবং প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, চিকিৎসা নিয়ে অবিশ্বাস এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি উত্তর কিভু ও ইতুরি প্রদেশে দুই তরুণ চিকিৎসকের ইবোলায় মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।

কঙ্গোর গণ্ডি পেরিয়ে আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। কেনিয়া, উগান্ডা ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশে এ প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা লোকজনকে শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের যাতায়াত এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

বর্তমান কঙ্গোর প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

ChannelNRB Footer