News Ticker
221.png

আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪২

শেয়ার

শেয়ার

আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া আফগান অভিবাসী ও শরণার্থীদের একটি দলকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) প্রথম দফায় একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাদের পাঠানো হতে পারে। তবে পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর এসব আফগানকে আবার তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও শরণার্থীদের স্বজনেরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা কয়েক ডজন আফগানকে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানে আফগানদের পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এ ধরনের বহিষ্কার ফ্লাইট হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফ্লাইটের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান সরকারের সম্মতি ছাড়া দেশটিতে কোনো মার্কিন চার্টার ফ্লাইট অবতরণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে কয়েক ডজন আফগানকে পাঠানোর প্রস্তুতির কথা বলা হলেও নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে খামা প্রেস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ফ্লাইটে ১৫০ জনের বেশি আফগান থাকতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে সম্প্রতি অন্তত ৮০ জন আফগানকে লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগান শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন AfghanEvac-এর প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডাইভার।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪টি পৃথক অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে সেখানে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের কোনো আইনজীবী নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, লুইজিয়ানার সেন্ট্রাল লুইজিয়ানা আইসিই প্রসেসিং সেন্টারকে সম্ভাব্য বহিষ্কার কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বহিষ্কার কার্যক্রমে যাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে এমন কিছু আফগান রয়েছেন, যাঁদের পরিবারের সদস্যরা আফগানিস্তানে ২০ বছরব্যাপী মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন।

২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর এসব আফগান ও তাঁদের পরিবারের অনেকেই নিরাপত্তার কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন।

মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এসব ব্যক্তিকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তাঁরা তালেবানের প্রতিশোধ, আটক, নির্যাতন কিংবা গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে সাবেক আফগান সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর আফগানদের ভবিষ্যৎ কী হবে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে দেশটি আফগান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। অনেক আফগানকে আটক করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আফগান শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে পাঠানো ব্যক্তিদেরও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

AfghanEvac-এর প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডাইভার সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তানে পাঠানো হলে এসব আফগানের পুনরায় আফগানিস্তানে ফেরত যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। সেখানে তাঁদের নির্যাতন, কারাবন্দি কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকতে পারে।

প্রস্তাবিত বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে হোয়াইট হাউস বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিচালনাগত নিরাপত্তার কারণে সম্ভাব্য বহিষ্কার কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের আপাতত কোনো ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

পাকিস্তান সরকারও প্রস্তাবিত ফ্লাইট গ্রহণে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই উদ্যোগে দেশটিতে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন বহু আফগান। তাঁদের মধ্যে অনেকে মার্কিন সেনাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। আবার অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেন।

এখন তাঁদের একটি অংশকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আফগানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পাকিস্তান কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় দেশে পাঠানো হলে তাঁদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এই বহিষ্কার কার্যক্রম শুধু অভিবাসননীতি নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, শরণার্থী সুরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহযোগীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ChannelNRB Footer