ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হুদায়দা প্রদেশে একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চালানো এ হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হুদায়দা প্রদেশের বাজিল জেলার ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির একটি স্থাপনায় পরপর দুটি বিমান হামলা চালানো হয়।
হুতি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবাও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তেল স্থাপনায় দুটি বিমান হামলা এবং তিনজন আহত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও হামলার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পরপরই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এ নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রোববার ইয়েমেনে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচিতে ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়। পরবর্তী সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহ, জ্বালানি এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:







