News Ticker
221.png

এল নিনোর ভয়াবহ তাণ্ডব মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:০৭

শেয়ার

শেয়ার

এল নিনোর ভয়াবহ তাণ্ডব মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
ছবি: সংগৃহীত

প্রবল খরা, সম্ভাব্য বন্যা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ৩১ অক্টোবর জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। এল নিনোর প্রভাবে ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অর্থ ও জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বলিভিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ছয়টি বিভাগের ৬৩টি পৌরসভায় খরার প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ৭৮ হাজার ২১৭টি পরিবার খরার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ৩৫ হাজার ৮৩১টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৪৮৬টি জনপদ, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১ হেক্টর কৃষিজমি এবং ৭৫ হাজার ১৩টি গবাদিপশু ক্ষতির হিসাবেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে দেশটিতে খরা ও বন্যা—দুই ধরনের দুর্যোগেরই আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি জানান, জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানবসম্পদ দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকর্মী ও সহায়তাকারী দল মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বলিভিয়ার আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

দেশটির আলটিপ্লানো, ভ্যালিস ও চাকো অঞ্চলে ইতোমধ্যে খরা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অন্যদিকে আগামী মাসগুলোতে কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, শিলাবৃষ্টি, দাবানল, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তন কৃষি উৎপাদন, পশুপালন, পানির সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

কোনো অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিতে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তাপপ্রবাহ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এ পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ChannelNRB Footer