News Ticker
221.png

মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:০৮

শেয়ার

শেয়ার

মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। বাহামাসগামী একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান আকাশ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নেমে এসে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার দৃশ্য আশপাশের গাড়ির ড্যাশক্যামের ভিডিওতে ধরা পড়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির ক্রেস্টহেভেন এলাকার কাছে মিলিটারি ট্রেইল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল লিয়ারজেট ৬০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ। এতে থাকা নয়জনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এবং তাঁদের মধ্যে কতজন যাত্রী ও কতজন ক্রু ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বলেন, বিমানটিকে আকাশ থেকে মিসাইলের মতো নিচে নেমে আসতে দেখা গেছে। এটি মাটিতে আছড়ে পড়ে রাস্তার পাশে বড় ধরনের গর্ত তৈরি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসছে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে সেটি সড়কে আছড়ে পড়ে এবং আগুনের বিশাল গোলা তৈরি হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানটি সড়কের পাশে বিধ্বস্ত হওয়ায় আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত মাটিতে থাকা অন্য কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের তথ্যও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর পাইলট বিমানে বরফ জমার পরিস্থিতি এবং মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনির কথা জানিয়েছিলেন। বিমানের বাইরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এরপর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পাইলট কন্ট্রোল সেন্টারকে জানান, বিমানটি প্রতি মিনিটে প্রায় ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। পরে অবতরণের গতি আরও বেড়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

একপর্যায়ে পাইলট জরুরি বিপৎসংকেত ‘মে ডে’ ঘোষণা করেন। বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং মাটিতে বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেটি বিধ্বস্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।

বিমানটি ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো আবহাওয়া ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানটি একটি শক্তিশালী ঝড়ের এলাকা অতিক্রম করেছিল বলেও জানা গেছে। তবে আবহাওয়াই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তদন্তের নেতৃত্ব দেবে এনটিএসবি।

বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া, বরফ জমে যাওয়ার প্রভাব এবং পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মিলিটারি ট্রেইল সড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকাজ ও তদন্তের স্বার্থে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ দুর্ঘটনাকে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানির দিক থেকে অন্যতম বড় বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ChannelNRB Footer