স্পেনে ভয়াবহ হাইস্পিড ট্রেন দুর্ঘটনায় চার মার্কিন নাগরিকসহ অন্তত ১০ বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে মোট ৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) স্পেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া ১০ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে চারজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া কানাডা, জাপান, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
এর আগে ফ্রান্স ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ফলে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ৬৬ জনের মধ্যে ৫৪ জন স্পেনের নাগরিক এবং ১২ জন বিদেশি নাগরিক।
এখনো তিনজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন দুই অস্ট্রেলীয় ও একজন জাপানি নাগরিক। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্পেনে এসে সরাসরি পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের (Renfe) একটি হাইস্পিড ট্রেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর (Iryo) পরিচালিত একটি স্থির ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটির কারণে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রেনফের ট্রেনটিকে পুনরায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও অন্য ট্রেনটি তখনো লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে ক্রেন, বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়োজিত করা হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা স্পেনের হাইস্পিড রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশটির আন্দালুসিয়া অঞ্চলে আরেকটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
পরপর দুটি বড় দুর্ঘটনায় দেশটির রেল অবকাঠামো, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ট্রেন পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ কাজ করছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে পরিচয় শনাক্তকরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পরিবারগুলোর অপেক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আরও পড়ুন:







