News Ticker
221.png

তুষারধসের তিন দিন পরও নিখোঁজ ৮ ট্রেকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

তুষারধসের তিন দিন পরও নিখোঁজ ৮ ট্রেকার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আট ট্রেকার। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, দুজন উত্তরপ্রদেশের এবং একজন স্থানীয় গাইড। প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী তুষারপাত ও একের পর এক তুষারধসের কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে একটি ট্রেকিং দল। দলটিতে ছিলেন সাতজন ট্রেকার, একজন গাইড, একজন রাঁধুনি ও তিনজন পোর্টার। বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই তাঁরা এই অভিযান শুরু করেছিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর তাঁদের গঙ্গোত্রীতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ওই অঞ্চলে আবহাওয়ার ব্যাপক অবনতি ঘটে। প্রবল তুষারপাত, হিমবাহের গতিবিধি ও তুষারধসের কারণে পাহাড়ি পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে পারেননি দলের সদস্যরা।

৩০ অক্টোবর আটকে পড়া সদস্যরা ট্রেকিং পরিচালনাকারী সংস্থার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তাঁরা কাচ্চি ঢাং এলাকার কাছে আটকে থাকার কথা জানিয়ে উদ্ধারের সহায়তা চান। এরপর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ আটজনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন তাপস বাউরি (৩০), রতন ঘোষ (২৩), মনোজ খোভাস (৩৯), ঋতু মণ্ডল (৪০) ও উদয় ঘোষ (৩০)।

এ ছাড়া উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বর্তিকা ভার্মা (২৮) ও দীপিকা ভার্মা (২৯) এবং উত্তরকাশীর বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী গাইড সিদ্ধার্থ রানাও নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে, দলের তিন পোর্টার ও একজন রাঁধুনি নিরাপদে ফিরে এসেছেন। তাঁরা কাচ্চি ঢাং এলাকার কাছ থেকে উদ্ধার হয়ে গঙ্গোত্রীতে পৌঁছান।

নিখোঁজদের সন্ধানে ৩১ অক্টোবর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথমে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পায়ে হেঁটে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের সাহায্যে আকাশপথেও তল্লাশি চালানো হয়।

তবে কয়েক দফা আকাশপথে অনুসন্ধান চালিয়েও নিখোঁজ ট্রেকারদের কিংবা তাঁদের তাঁবু ও অন্যান্য সরঞ্জামের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রতিকূল আবহাওয়া ও নতুন করে তুষারধসের আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) উদ্ধার অভিযানে নতুন গতি আনতে এসডিআরএফের ছয়জন এবং নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ের (এনআইএম) চারজন সদস্য নিয়ে গঠিত ১০ সদস্যের বিশেষ পর্বতারোহী উদ্ধারকারী দলকে হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকায় নামানো হয়েছে। তাঁরা স্থলপথে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাবেন।

এ ছাড়া এনডিআরএফের একটি বিশেষ দল এবং ট্রেকিং সংস্থার সদস্যরাও গঙ্গোত্রী থেকে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

উদ্ধারকাজে যুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আটকে পড়া ট্রেকারদের মধ্যে অন্তত একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ, প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের আশঙ্কায় নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রায় চার হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কেদারতাল অঞ্চলটি এমনিতেই দুর্গম। তুষারধসে একাধিক স্থানে পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

টানা তিন দিন ধরে স্বজনদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নিখোঁজ ট্রেকারদের পরিবারগুলো উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ বাসিন্দা নিখোঁজ থাকায় তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া ও পাহাড়ি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। নিখোঁজ আটজনকে খুঁজে বের করতে স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ChannelNRB Footer