মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিমান হামলায় এক নবজাতকসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩২ জন। গত শনিবার ও রোববার দেশটির রাখাইন ও কায়াহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে স্কুলপড়ুয়া শিশুও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চারটি এলাকায় বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এলাকাগুলো হলো কিয়াউকতাও, ম্রাউক-ইউ, কিয়াউকফিউ ও পাউকতাও।
এর মধ্যে ম্রাউক-ইউ এলাকায় একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র ও মাতৃসদনে বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে এক সপ্তাহ বয়সী এক নবজাতক এবং স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। হামলায় চিকিৎসাকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় একজন ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবন ধসে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। শিশুটির যমজ ভাই বা বোন বেঁচে গেছে।
এ ছাড়া কিয়াউকতাও এলাকায় একটি সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হন। অন্যদিকে কিয়াউকফিউ ও পাউকতাও এলাকায় হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
রাখাইনের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ রাজ্যের লোইকাও শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়।
গত ৩১ অক্টোবর একটি স্কুলে হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও পাঁচ শিশু। নিহতদের মধ্যে একজন ছেলে ও দুজন মেয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে কারেন্নি রাজ্য অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিষদ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার সময় সেখানে কোনো সংঘর্ষ বা সামরিক তৎপরতা ছিল না। বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দেওয়া ওই স্কুলে শিশুরা অবস্থান করছিল।
কারেন্নি মানবাধিকার সংগঠনসহ স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও প্রতিরোধ গোষ্ঠী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। রাজ্যটির বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চলছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সামরিক বাহিনী হারানো অঞ্চল পুনর্দখলের চেষ্টা জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসামরিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের হামলার স্বাধীন তদন্ত এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন:







