র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং জনসাধারণের মতামত আহ্বান করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হলে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠন করা হবে। নতুন বাহিনী সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার, মানবপাচার, সাইবার অপরাধসহ জটিল অপরাধ দমনে কাজ করবে। পাশাপাশি আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে।
খসড়া অনুযায়ী, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তদন্তের পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে। জব্দ করা আলামত আদালতের নির্দেশ বা সরকারি বিধি অনুযায়ী সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। অতীতে র্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
র্যাব ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাহিনীটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও বিতর্কের মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাহিনীটির পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত হয়নি। জনমত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আইনটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেবে সরকার।
আরও পড়ুন:







