বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের ঘোষণা এখনো সব পর্যায়ে জানানো হয়নি।
মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে গেলেন। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে এখনো তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে শুরুতে তাঁরা কার পক্ষে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
পরে দলীয় সূত্রে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে আসে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের একটি অংশ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার পক্ষে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন কঠিন সময়ে তিনি দলের দৃশ্যমান নেতৃত্বে ছিলেন।
দলের বাইরে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আরটিভি
আরও পড়ুন:







