News Ticker
221.png

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪০

শেয়ার

শেয়ার

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। জুনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী আগস্টের শেষ নাগাদ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্যান্য উৎসের তুলনায় আরও স্থিতিশীল ও নির্ভুলভাবে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করতে হয়। এ কারণে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রহণ ও সঞ্চালনের জন্য জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের ৪০০ কেভি সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর বেশিরভাগের কমিশনিং শেষ হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের গতি ও জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে পুরোপুরি সমন্বয় এখনও তৈরি হয়নি। এই সমন্বয় যথাযথভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই গ্রিডের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে শুরুতেই পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রথমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করে বিভিন্ন পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারির দিকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা, সঞ্চালন অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষার সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। সেপ্টেম্বরে ৩০০ মেগাওয়াট পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য পূরণ হলে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবিক অর্থে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer