চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানিয়েছেন, এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে নির্বাচনের সময়সূচি ও কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে কোনো ব্যত্যয় হবে না।
এর আগে গত ৬ আগস্ট সিলেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন চলতি অর্থবছরের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আগস্টের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠক করে কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
১৪ আগস্ট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম আরও জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে এবং অনুমোদিত বাজেটেই এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি স্তর হলো—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ। এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসক বা সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস সময় খুব কম হলেও খাল, লেক ও রাস্তা নিয়ে কাজ চলছে। নিজেদের কার্যক্রমে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলেও সরকার অনেকদূর এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজ পরিচালনা করা কঠিন উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে এলে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান ও উন্নয়নকাজের গতি আরও বাড়বে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের ধারাবাহিক বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মে মাসেও প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে এবং এক বছরের মধ্যে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, অর্থ বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ধাপে ধাপে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:







