প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নতুন দায়িত্বে তাকে যুক্ত করা হয়।
মন্ত্রিসভায় এটি সরকারের প্রথম বড় ধরনের রদবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। নতুন দায়িত্ব বণ্টনে তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পরপরই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান হয়। এই দফায় ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থসহ চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় যুক্ত হন।
শপথ নেওয়া নতুন পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট।
আন্দালিব রহমান পার্থ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন। এর আগে ২০০৮ সালে একই আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় পার্থ বিএনপির সঙ্গে জোটগত রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। নির্বাচনের আগে ভোলা-১ আসনে তার প্রচারণায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়।
নতুন দায়িত্বে আন্দালিব রহমান পার্থের সামনে তথ্য ও সম্প্রচার খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামলানোর চ্যালেঞ্জ থাকবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কার্যক্রম, তথ্যপ্রবাহ, সম্প্রচারনীতি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচার—এসব ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি একই সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক জোটের সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্থের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংসদীয় ভূমিকা নতুন দায়িত্ব পালনে কাজে আসতে পারে।
আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় আরও কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। রশিদুজ্জামান মিল্লাট পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। এছাড়া সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন।
আন্দালিব রহমান পার্থের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া সরকারের জোট রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিগত অবস্থান বাস্তবায়নে তার ভূমিকা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পার্থের দীর্ঘ পথচলায় যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখন তার নেতৃত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কী ধরনের উদ্যোগ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের।
আরও পড়ুন:







