News Ticker
221.png

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৪

আপডেট: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৫৯

শেয়ার

শেয়ার

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকার ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আসা ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অনেকেই এ দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগও করেছেন।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, স্থলবন্দরগুলো কার্যকরভাবে চালু না থাকায় ভারত থেকে বাংলাদেশে কাঁচামাল আনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় বেড়ে যায়।

মন্ত্রী জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এসব প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। 

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার জন্য একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ বা ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব এফবিসিসিআই নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে বিদেশি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়লে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তরের সুযোগও তৈরি হবে। 

বাংলাদেশে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদেরও আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কী ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে—এ বিষয়ে তারা কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ দিয়েছে।

সরকার এসব প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েছে বলেও জানান তিনি। 

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের স্থলবন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাবও সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

তার মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। তবে শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর দিকে নজর না দিয়ে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রপ্তানি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিও বাড়বে। তাই আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বোঝাতে বাণিজ্যমন্ত্রী ভিয়েতনামের উদাহরণ দেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামের আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার।

দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। 

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অবকাঠামো, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং সীমান্ত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় ও মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবগুলো সরকার বিবেচনা করছে এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। 

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer