News Ticker
সর্বশেষ
২৭ বছর পর বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন ৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ খালিদ অর্থসংকটে থমকে যাওয়া চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ফাতেমার পাশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকোর মৃত্যু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ডন বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে: চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
221.png

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, প্রস্তুত হচ্ছে খসড়া চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২১

শেয়ার

শেয়ার

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, প্রস্তুত হচ্ছে খসড়া চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ জন্য সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। খসড়াটি পরবর্তী অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (MRCA), বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ড্রোন বা ইউএভি ব্যবস্থা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এসব ক্রয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাহেদ উর রহমান জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতীয় রাফালকে ভূপাতিত করেছিল—এমন দাবি তিনি উল্লেখ করেন। তবে ওই সংঘাতের বিমানযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। 

উপদেষ্টার ভাষ্য, রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো তুলনামূলক ব্যয়বহুল ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমান একই ধরনের সক্ষমতার ক্ষেত্রে কম খরচে পাওয়া যেতে পারে। ফলে সক্ষমতা ও ব্যয়—দুই দিক বিবেচনায় জে-১০সিইকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কতটি জে-১০সিই কিনবে, মোট চুক্তিমূল্য কত হবে কিংবা কবে বিমানগুলো দেশে আসবে—এসব তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২৪টি জে-১০সিই কেনার বিষয় বিবেচনা করছে। এসব সংখ্যা ও অর্থমূল্য আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর চূড়ান্ত হতে পারে। 

এর আগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০টি জে-১০সিই কেনার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বর্তমান প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সংখ্যা ও চুক্তির অর্থমূল্য এখনো নির্ধারিত হয়নি।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা শুধু জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিমানবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের জন্য অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহন হেলিকপ্টার এবং বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন আকাশযান বা ইউএভি সংগ্রহের উদ্যোগও চলছে।

জে-১০সিই ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতোমধ্যে আলোচনার মাধ্যমে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। 

চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। গত দুই দশকে দেশটি বাংলাদেশকে নৌযান, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। ফলে জে-১০সিই কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে শুধু সামরিক সক্ষমতা ও মূল্য নয়, কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer