News Ticker
221.png

বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক অন্যতম চালিকাশক্তি: মাহ্‌দী আমিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১২

শেয়ার

শেয়ার

বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক অন্যতম চালিকাশক্তি: মাহ্‌দী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক অন্যতম চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, চীনের বহু বিশ্ববিদ্যালয় আজ বিশ্ব র্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেই গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস এবং উন্নত গবেষণার সংস্কৃতি আমরা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা অপরিসীম; প্রয়োজন কেবল যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও আধুনিক প্রশিক্ষণ, যেখানে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। এর আওতায় আমরা চাই বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্কলারশিপ বহুগুণে বৃদ্ধি পাক। পাশাপাশি নতুন অবকাঠামোর চেয়েও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাব ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা যৌথ গবেষণা প্রকল্প হাতে নিতে আগ্রহী।
বুধবার চীনের গুয়াংঝুতে চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা বলেন। অনুষ্ঠানে চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন- এই চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সাথে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার পরেই চীনে এসেছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা, যার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। আমরা চাই দল, মত, আদর্শ নির্বিশেষে সকলের অধিকার নিশ্চিত করতে, সেই যাত্রায় আমরা শিক্ষাকে সার্বজনীন রুপ দিতে চাই।
​বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তথা 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড' উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, তবে বিগত বহু বছর ধরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় তত্ত্বনির্ভর ছিল। শ্রেণীকক্ষের সেই শিক্ষা বাস্তব কর্মজগতে বা আন্তর্জাতিক বাজারে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিতে পারেনি। আমাদের সরকার শিক্ষাকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও প্রায়োগিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যেই আমরা সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছি।
পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের তরুণদের এগিয়ে রাখতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মান্দারিন তথা চাইনিজ ভাষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সাথে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কাজের বাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের চাকরির পথ সুগম করতে আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নিচ্ছি।
উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, চাইনিজ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও সামার স্কুলে বাংলাদেশে আসবে, আবার বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। একই সাথে চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা আরও নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। চীনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসুন, সম্ভাবনাগুলো যাচাই করুন এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোর সাথে যৌথ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি পার্টনারশিপ গড়ে তুলুন।
'চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার'-এর যাত্রা শুরু হওয়ায়
​সেবা কেন্দ্রটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন মাহ্দী আমিন।‌ প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আসুন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মেধা ও গবেষণার মেলবন্ধনে আমরা দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিই।
এছাড়াও চমৎকার আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাস এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী হলেন ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন , সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়া, আনহুই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়েথ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ,জিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউ,থিয়েনচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ডিন লি চিয়াং, শেনিয়াং আরবান কনস্ট্রাকশন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন, শাও শিউজুয়ান, গুয়াংডং ভোকেশনাল কলেজ অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ট্রেডের প্রেসিডেন্ট ঝাং শিয়াওইয়ান, শিয়েননিং ভোকেশনাল টেকনিক্যাল কলেজের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফাং গাওয়েন, উহান অপটিকস ভ্যালি ইংছাই টেকনিক্যাল স্কুলের প্রিন্সিপাল ইয়ান গানটিং, গুয়াংডং পলিটেকনিক অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির
ভাইস-প্রেসিডেন্ট পান ছিহুয়া, চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শেখ কোরবান আলীসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন এবং আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer