ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমা হওয়া বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীনের চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (CMEC) গ্রুপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী দেড় বছরের মধ্যে আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন পৌর বর্জ্য সংগ্রহ করে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের নেট উৎপাদন সক্ষমতা ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এ জন্য চারটি ৭৫০ টন ক্ষমতার ইনসিনারেটর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটি চালু হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সরকারি বৈঠকে জানানো হয়েছিল, আগস্ট ২০২৮ থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রটি ২৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
ঢাকার দ্রুত বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ল্যান্ডফিলে ফেলার পরিবর্তে এর একটি অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হলে ল্যান্ডফিলের ওপর চাপ কমতে পারে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর এলাকায় বর্জ্য জমে থাকা এবং পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সরকার ওই এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে CMEC Group বিনিয়োগ করবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নসংক্রান্ত নথিতেও China Machinery Engineering Corporation-কে প্রকল্পের কোম্পানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের নেট সক্ষমতা ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।
এর আগে ২০২১ সালে আমিনবাজারে বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে ছিল।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর একটি অংশ প্রকল্পটির ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, বর্জ্য পোড়ানোর সময় ছাই, ক্ষুদ্র কণা ও কিছু ক্ষতিকর দূষক তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি প্রকল্পে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা থাকায় বর্জ্য কমানো ও পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা মনে করছে।
একটি জাইকা সমীক্ষাতেও বর্জ্যের গুণগত মান, পর্যাপ্ত বর্জ্য সরবরাহ এবং ইনসিনারেশনের পর উৎপন্ন ফ্লাই অ্যাশের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো একদিকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা কমানো, অন্যদিকে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো। জুলাইয়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন:







