News Ticker
221.png

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৫

আপডেট: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৩

শেয়ার

শেয়ার

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কারও প্রতি তার কোনো রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তার একমাত্র লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ এবং সেই অবস্থান থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগ স্থান পাবে না। জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের কল্যাণকে সামনে রেখেই তিনি কাজ করতে চান।

রাষ্ট্রপতির এমন বক্তব্যকে তার নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান বজায় রাখার প্রত্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এসব মূল্যবোধ অনুসরণ করে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য বজায় রাখার কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্ব সবার।

তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।

বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

তার মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের ব্যবহার হতে হবে সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং অপচয় রোধের আহ্বান জানান তিনি। 

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সবাই একই জায়গায় কাজ করেন এবং তারা একটি পরিবারের মতো।

কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় জানান রাষ্ট্রপতি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

একই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র ও দেশ গঠনে অবদান ও ত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি। 

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer