মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না—এ বিষয়ে সবদিক বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশের নীতির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, “ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হিসেবে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করার নীতি রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
মক্কা চুক্তি নিয়ে এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর অভিপ্রায় ও পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। ফলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যে চুক্তিটি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে আইনমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করবে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ভাবনা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিকও জড়িত।
বিশেষ করে ভারত বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কীভাবে দেখছে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের নিজস্ব নীতি ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না, সেটিই মূল বিষয় নয়। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন বা ই-জুডিশিয়ারি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:







