আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সমাজ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করতে সরকার কাজ করছে। ধর্ম পালনে কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা রামগোপাল মন্দির চত্বরে পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। ধর্ম পালনে কোনো ধরনের বাধা, ভয়ভীতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্বিঘ্নে আপনাদের ধর্ম পালন করবেন। আমরা আমাদের ধর্ম পালন করব। কেউ বাধা দেবে না।’
ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেউ মাস্তানি বা বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। আইনমন্ত্রী জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের সঙ্গে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের বিষয়টি জড়িত। একইভাবে বর্তমান সমাজেও বিভিন্ন ধরনের অপশক্তি ও অশুভ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই সমাজ থেকে অপশক্তি দূর করতে চাই। সেই সংগ্রামে আপনাদের পাশে পাবো বলে আশা রাখি।’
আইনমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনা ধারণ করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সব ধর্মের মানুষ যাতে ভয়হীন পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোনো ধরনের বাধা বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে ন্যায়, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শৈলকুপা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন:







