News Ticker
221.png

নেপালের সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ২ শ্রমিক উদ্ধার, শোনা যাচ্ছে বহু মানুষের কণ্ঠ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩২

শেয়ার

শেয়ার

নেপালের সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ২ শ্রমিক উদ্ধার, শোনা যাচ্ছে বহু মানুষের কণ্ঠ
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাসুয়া জেলার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে নেপালের সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল।

উদ্ধারের আগে টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠ শোনা যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা অন্য শ্রমিকদেরও জীবিত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজন। তারা যথাক্রমে যান্ত্রিক ফোরম্যান ও যান্ত্রিক সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।

নেপাল সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, টানেলের প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাদের কাছে পৌঁছান। পরে দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়।

উদ্ধারের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাস্থলে স্বস্তি ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধকার ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকার পর জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে আসা দুই শ্রমিককে উদ্ধারকারীরা কাঁধে করে বাইরে নিয়ে আসেন।

দুই শ্রমিককে উদ্ধারের আগে উদ্ধারকারী দলের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি আসে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার মাধ্যমে।

নেপালি আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে জানান, উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠ শুনতে পান। উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানালে ভেতর থেকে সাড়াও পাওয়া যায়। 

এই সাড়া পাওয়ার পরই উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, টানেলের কিছু অংশে বাতাসের জায়গা বা এয়ার পকেট তৈরি হওয়ায় শ্রমিকরা এতদিন বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছেন।

দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য টানেলের ভেতরে থাকা অন্যদের খুঁজে বের করা।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, শুধু ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলেই বহু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। বিভিন্ন সূত্রে সংখ্যাটি নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও, প্রায় শতাধিক শ্রমিক সেখানে আটকে থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল মিলিয়ে আরও কয়েকশ শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

নেপালের যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা জানিয়েছেন, আরও শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে সরকার আশাবাদী। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদী দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে।

এর প্রভাবে ত্রিশুলি নদীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা তছনছ হয়ে যায়। সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর টানেলের প্রবেশপথ আটকে দেয়। ফলে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

উদ্ধারকারী দলগুলো গত কয়েক দিন ধরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে টানেলের মুখ থেকে কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছে।

কিছু জায়গায় টানেলের ভেতরে পৌঁছাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ও বিশেষায়িত উদ্ধার প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানা গেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য জীবিতদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া এবং টানেলের ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা চলছে।

উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত কাদা বা পাথর সরানোর সময় টানেলের কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই প্রতিটি ধাপে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

২৬ আগস্টের বন্যা ও ভূমিধস নেপালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর বেশি এবং নিখোঁজের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে জানানো হয়েছে। তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগব্যবস্থা, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে নিখোঁজদের সন্ধান করতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer