News Ticker
221.png

ক্ষমা পেলেন আন্দোলন করে শাস্তি পাওয়া এনবিআরের ২০ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৩

শেয়ার

শেয়ার

ক্ষমা পেলেন আন্দোলন করে শাস্তি পাওয়া এনবিআরের ২০ কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও বিভাজনবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর বিষয়টি জানা যায়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিবের স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের মূল বেতন নির্দিষ্টসংখ্যক ধাপ কমিয়ে দেওয়ার যে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকেও তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দণ্ড মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (উপকমিশনার) মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বশর, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া এবং খুলনার কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

এ ছাড়া কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকির হোসেন, একই কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, গাজীপুরের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান, ঢাকা পশ্চিমের অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম এবং নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদারও রয়েছেন।

কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, কর অঞ্চল-যশোরের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, কর অঞ্চল-গাজীপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, কর অঞ্চল-ঢাকার অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, কর অঞ্চল-যশোরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন খান এবং ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনার উপকর কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান, কর অঞ্চল-২১ ঢাকার উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল এবং কর অঞ্চল-দিনাজপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানার শাস্তিও বাতিল করা হয়েছে।

২০২৫ সালে এনবিআরকে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিভাজনসংক্রান্ত অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতেও আন্দোলন শুরু হয়। একপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি দিলে এনবিআরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্বসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে কয়েকজন কর্মকর্তা আগের বদলি আদেশের প্রতিবাদ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সামনে বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলা এবং সরকারি আদেশ অমান্যসহ শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের অভিযোগ আনা হয়।

বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও মূল বেতন দুই ধাপ, আবার কারও আরও কয়েক ধাপ কমিয়ে দেওয়ার মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

শাস্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মার্জনার আবেদন করেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁদের আপিল আবেদন মঞ্জুর করার পর দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআরের কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। সে সময় শাস্তি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer