জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি এক বছরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল বহুপাক্ষিক ফোরামটির সভাপতির দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্বও করেন ড. খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
চলতি বছরের ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ১৯০টি ভোটের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস, যিনি পান ৯১ ভোট।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পালাক্রমিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এবার এই অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ড. খলিলুর রহমান ২০২৬-২৭ মেয়াদে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত হন।
খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রায় চার দশক পর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেলেন। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আগামী এক বছরে ড. খলিলুর রহমানকে বৈশ্বিক রাজনীতি ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মোকাবিলা করতে হবে। যুদ্ধ ও সংঘাত, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা—এসব ইস্যু সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং প্রতিটি দেশের একটি করে ভোট রয়েছে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন। ফলে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা তৈরিতে সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ড. খলিলুর রহমান তাঁর অগ্রাধিকার হিসেবে জাতিসংঘে আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ৮১তম অধিবেশনে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য বাড়ার সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ায় ড. খলিলুর রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি করা তাঁর দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
আরও পড়ুন:







