অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান। নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার কাউন্সিলের সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের ভোটে তিনি এই দায়িত্ব পান। একই সভায় ভিন্স ফেরেরি মেয়র নির্বাচিত হন।
এলিজা রহমানের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী ডেপুটি মেয়র হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ডেপুটি মেয়র হওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি। এর আগে ২০২৩ সালে মাসুদ খলিল ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে এই পদে দায়িত্ব নেন।
রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে উঠে এসেছেন এলিজা রহমান। প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা, কমিউনিটি অংশগ্রহণ এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
ক্যামডেন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এলিজা রহমান বর্তমানে নর্থ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করছেন।
সিডনির ক্যামডেন একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ও বহুসাংস্কৃতিক স্থানীয় সরকার এলাকা। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে।
এলিজা রহমান কাউন্সিলের মাল্টিকালচারাল রেফারেন্স গ্রুপের কাউন্সিলর সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি সিনিয়রস রেফারেন্স গ্রুপ ও ইভেন্টস রেফারেন্স গ্রুপের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মতামত কাউন্সিলের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এসব কাজের পরিধি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এলিজা রহমানের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদে আসা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। একই সঙ্গে এটি অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয়দের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতিফলন।
বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলিজা রহমানকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার পূর্ণ নাম এলিজা আজাদ রহমান টুম্পা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও দামুড়হুদা এলাকায়ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা এটিকে এলাকার জন্য গর্বের অর্জন হিসেবে দেখছেন।
এলিজা রহমানের আগে ২০২১ সালে ড. সাবরিন ফারুকী ও সাজেদা আক্তার সানজিদা অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এলিজা তাদের পর অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীদের মধ্যে তৃতীয়।
তবে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এলিজাই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুরুষ হিসেবে মাসুদ খলিল এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন:







