সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদবির আগে প্রচলিত সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের প্রথা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই। একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত শুধু পরিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কার্যালয়ের বিভিন্ন ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর ফলে সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ লেখার পরিবর্তে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ উল্লেখ করা হচ্ছে। একই নীতির আওতায় অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও পদবির আগে কোনো সম্মানসূচক বিশেষণ ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন।
দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ সরকারপ্রধানের ক্ষেত্রেও দপ্তরের প্রচলিত উপস্থিতি-ব্যবস্থাকে প্রযোজ্য রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তি নিজেই সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম অনুসরণ করলে প্রশাসনের অন্য স্তরেও সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা জোরদারের বার্তা যায়।
‘মাননীয়’ বা অন্যান্য সম্মানসূচক শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই ধরনের একটি দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে—পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়কে সামনে রাখা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্দেশনাটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য নয়; সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীন দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অনলাইন হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
সরকারপ্রধান নিজেই যখন একই দাপ্তরিক নিয়মের আওতায় থাকছেন, তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছেও নিয়মিত উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনে জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এমন দৃষ্টান্ত কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে, তা অবশ্য সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত সরকারের নতুন দাপ্তরিক রীতির প্রথম দৃশ্যমান প্রয়োগ ঘটছে প্রধানমন্ত্রীর নিজের কার্যালয় থেকেই।
আরও পড়ুন:







