ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যাচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি প্রতিনিধিও পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন—বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য দেশ নয়। ভারত এবারের সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর আগে জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র ঢাকায় পৌঁছেছে এবং সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রী না গেলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্য কোনো সরকারি প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সেটিও স্পষ্ট ছিল না।
৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ বিকল্প কোনো প্রতিনিধির নাম জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নেরও সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো। তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেবেন না।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে।
তার ভাষায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফর ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারত এ বছর জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের নেতারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
চীন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিও এবারের সম্মেলনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির নানা বিষয় সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
আরও পড়ুন:







