News Ticker
221.png

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২০

শেয়ার

শেয়ার

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণকে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত দুটি রিট আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে গ্রামীণ কল্যাণের ওপর এনবিআরের পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে আরোপ করা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা প্রতিষ্ঠানটির আবেদন টেকেনি।

আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর দাবি করা হয় ২০১২–১৩, ২০১৩–১৪, ২০১৪–১৫, ২০১৫–১৬ এবং ২০১৬–১৭ করবর্ষের জন্য। পাঁচটি করবর্ষ মিলিয়ে দাবিকৃত করের পরিমাণ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা।

পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে এই কর দাবি করার পর এর বৈধতা নিয়ে আপত্তি তোলে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে পৃথক রিট আবেদন করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এসব রিটের বিষয়ে রায় দেন। 

এই কর বিরোধের বিষয়ে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ করে দিয়েছিলেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, রিট খারিজ হওয়ায় এনবিআরের দাবি করা অর্থ আদায়ের পথ খুলেছে।

তবে পরে একই বেঞ্চ নিজেদের দেওয়া রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার (রিকল) করে নেন। আদালতের নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য যায়।

রায় প্রত্যাহারের পেছনে বেঞ্চের একজন বিচারকের পূর্ববর্তী পেশাগত সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট বিচারক আইনজীবী হিসেবে অতীতে ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানানো হয়েছিল।

গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এনবিআরের কর দাবির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আয়ের ওপর আগে থেকেই উৎসে কর পরিশোধ করা হয়েছিল। ফলে একই আয়ের ওপর পুনরায় কর আরোপ করা যায় কি না—এটাই ছিল মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।

জুলাই ২০২৬-এ গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছিলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির ভিত্তিতে পাওয়া মুনাফার ওপর প্রতিষ্ঠানটি ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর পরিশোধ করেছে। তার দাবি ছিল, পরবর্তীতে একই আয়ের ওপর আবার কর আরোপের বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

৬৬৬ কোটি টাকার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনেক সময় এটি ‘ড. ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকা কর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি হলো গ্রামীণ কল্যাণের করসংক্রান্ত বিরোধ।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানটির নামেই পরিচালিত হচ্ছে।

হাইকোর্টের রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৃহস্পতিবারের রায়টি সংক্ষিপ্ত রায় হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর সেটি পর্যালোচনা করে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন করা হবে।

গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে এনবিআরের এই কর বিরোধের সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। ২০১৭ সালে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে কর দাবি তোলার পর বিষয়টি একাধিকবার হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।

২০২৪ সালের রায়, সেটি প্রত্যাহার এবং নতুন বেঞ্চে শুনানির পর আজকের রায় এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় তৈরি করেছে।

তবে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, এটি কর ফাঁকির বিষয় নয়; বরং একই আয়ের ওপর পুনরায় কর আরোপের বৈধতা নিয়ে বিরোধ। অন্যদিকে এনবিআরের অবস্থান হলো, সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলোর পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে যে কর দাবি করা হয়েছে, তা আইনানুগ।

আজকের রায়ের ফলে আপাতত ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি বহাল থাকল। তবে গ্রামীণ কল্যাণ আপিল বিভাগে গেলে পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এই বিপুল অঙ্কের করের চূড়ান্ত পরিণতি।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer