News Ticker
221.png

সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার: মাহ্দী আমিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১৩

শেয়ার

শেয়ার

সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার: মাহ্দী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যে সুযোগ সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করে তা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই চলমান প্রক্রিয়ায় আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষকদের স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
বৃহস্পতিবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শিক্ষকদের মর্যাদাদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, পূর্বে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো, যা বর্তমান সরকার বাড়িয়ে শতাধিক শিক্ষকে উন্নীত করেছে। আগামীতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে যেসব শিক্ষক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং নিজেরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের উপযুক্ত মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ও আন্দোলনে শিক্ষকদের অবদানের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার শিক্ষক ও কর্মচারীদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের সক্ষমতা এবং সার্বিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক সমাজের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে 'ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি, আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে নিতে হলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কারণ, শিক্ষক সমাজই রাষ্ট্র রূপান্তর ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবিগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হবে। এ লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সকল অংশীজনের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
পেশাগত সীমার বাইরে গিয়ে দেশের জন্য অসামান্য ত্যাগের জন্য শিক্ষক সমাজের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান- ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা দেশ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আজ যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে, তার পেছনে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে। অতীতে শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি এবং অনেকে জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছেন।
​মাহ্দী আমিন বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা, গণশিক্ষা, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা, উচ্চমাধ্যমিক কিংবা উচ্চশিক্ষা- প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের স্বার্থে বহুবিধ কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশব্যাপী স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো বিএনপির হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।
​প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপিও ব্যবস্থা চালু, এনটিআরসিএ গঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ ও ‘কল্যাণ ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠার মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলোও বিএনপি সরকারের সময়েই গৃহীত হয়েছিল।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা অংশ নেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer