News Ticker
221.png

ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৯

শেয়ার

শেয়ার

ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক প্রশিক্ষণ, বৈশ্বিক সংযোগ ও শিল্পের সাথে সমন্বয়ে দক্ষ হয়ে উঠবে দেশের প্রকৌশলীরা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তরুণ প্রকৌশলীদের যথাযথ ক্ষমতায়ন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদন্ডে স্বীকৃত ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই রূপরেখা বাস্তবায়ন এবং আরও বেশি প্রোগ্রামকে এই আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে 'বিএইটিই জাতীয় সিম্পোজিয়াম ২০২৬' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। দ্য ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর বোর্ড অফ অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বায়েট) এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও উচ্চশিক্ষা সংস্থায় বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা তাঁদের অসাধারণ উৎকর্ষের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। তাই তরুণদের মেধার কোনো সংকট নেই; আসল বিষয়টি হলো সরকার হিসেবে তাঁদের জন্য সঠিক সুযোগ, উপকরণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে কি না।
বিশ্বমানের প্রকৌশল শিক্ষা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, আন্তঃসীমান্ত শিক্ষার প্রসারে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অত্যন্ত জরুরি, যার উজ্জ্বল উদাহরণ ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড ও ডাবলিন অ্যাকর্ড। দেশীয় প্রকৌশল শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে একটি কার্যকর ও সমন্বিত প্রমিত মানদণ্ড গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার মান উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সঠিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমণ্ডলী নিশ্চিত করা, গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা আবশ্যক। এছাড়া মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল ব্যবহারের সুবিধা সহজলভ্য করার মাধ্যমে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক উদ্ভাবনগুলো প্রকৌশল শিক্ষার ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের জন্য নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা অপরিহার্য। তিনি বলেন, এআই হয়তো নিজে কোড লিখে দিতে পারে কিংবা দারুণ সব সমস্যার সমাধান করতে পারে, কিন্তু প্রতিটি প্রযুক্তির পেছনে নৈতিকতা ও সুবুদ্ধি নিশ্চিত করতে মানুষের দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকার চায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা প্রকৌশলীদের সেই নৈতিক মানদণ্ড শেখাবে, যাতে তাঁরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পরিমণ্ডলেই সফল হতে পারেন।
শিক্ষা এখন ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নিয়েই তরুণরা বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেবে, শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক সংস্থায় নেতৃত্ব দেবে কিংবা সেরা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করবে। আধুনিক পাঠ্যক্রম, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগের মাধ্যমে প্রকৌশলীরা আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন।আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে এই সুযোগ তৈরি করাই বর্তমান সরকারের প্রধান রূপকল্প।
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দক্ষ প্রকৌশলীদের ভূমিকা অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, সেতু, রেলপথ, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা শিল্পকারখানা ও আধুনিক স্থাপত্য-দেশ গড়ার প্রতিটি খাতেই প্রকৌশলবিদ্যার প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। তাই বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রকৌশলীদের মেধার পূর্ণ বিকাশে প্রয়োজনীয় সকল নীতিগত সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেবে সরকার।
মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে সব নীতি প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া ও নীতিনির্ধারকদের যৌথ প্রয়াসে একটি সমন্বিত নীতি কাঠামো তৈরির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের আট মাসের যাত্রায় শিক্ষা ও প্রযুক্তির মানোন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশের আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল প্রোগ্রামকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আওতায় আনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমতা আনয়নে বায়েট-এর উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে সাধুবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে, যার মধ্যে প্রায় ২০ হাজার তরুণ প্রকৌশল বিদ্যার বিভিন্ন শাখায় ভর্তি হচ্ছে।
বিপুলসংখ্যক প্রকৌশল শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মানের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদানে এখনো একই মানের সমতা নিশ্চিত করা যায়নি; গুণগত মানে দৃশ্যমান ব্যবধান রয়ে গেছে। একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ মানদণ্ড তৈরি করা প্রয়োজন। এর ফলে গ্র্যাজুয়েটরা চাকরির বাজারে প্রবেশ কিংবা উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারবে।
এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষার জন্য বায়েটের যৌথ ও পরিপূরক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, বায়েট নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে কাজ করতে পারে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের অনুমোদনকে আরও সুসংহত করবে।
বায়েট ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ অর্জন করায় এই কার্যক্রমকে সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন। তরুণ জনগোষ্ঠীর বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রকৌশল শিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
বিএইটিই -এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. তানভীর মনজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাবলিন অ্যাকর্ডের চেয়ার প্রফেসর ই. ড. মেগাত জোহারি মেগাত মোর্দ নূর, ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের চেয়ার প্রফেসর ড. কাই স্যাং লক, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন খান, আইইবি-র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer