News Ticker
221.png

ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২০

শেয়ার

শেয়ার

ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিনজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাঁদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
সাক্ষাৎকালে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই তিনি লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer