News Ticker
221.png

ইউরোপের তিন দেশ থে‌কে ফেরত পাঠানো হ‌লো ৩৫ বাংলাদেশিকে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৫

শেয়ার

শেয়ার

ইউরোপের তিন দেশ থে‌কে ফেরত পাঠানো হ‌লো ৩৫ বাংলাদেশিকে
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।

বিমানবন্দর ও অভিবাসন পুলিশের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পিভিজি-৯৪৪৫ নম্বরের বিশেষ ফ্লাইটটি সকাল সোয়া ৮টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করে। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সমন্বয়ে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ফেরার পরপরই অনেক অভিবাসীকে আর্থিক অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার খরচের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেরত আসা ৩৫ বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসা সবাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরে সহায়তা পেয়েছেন।

তিনি জানান, তাঁদের কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে আর্থিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হলো, দেশে ফিরে তাঁরা যেন নতুন করে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

বিমানবন্দরে দেওয়া তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ ফেরত আসা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধ ভিসা বা প্রয়োজনীয় বসবাসের অনুমতি ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবং ফেরত পাঠানো ব্যক্তির বাংলাদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত আনার বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে দেশে ফেরত আসা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি এক নয়। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, কেউ প্রয়োজনীয় বসবাসের অনুমতি না-ও পেতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইনের আওতায় প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমান ৩৫ জনের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণ প্রযোজ্য, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত এসওপি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধ পথে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের কেউ বৈধ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিদেশে যান, আবার কেউ দালাল বা মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করেন।

অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অনেককে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হয়। কেউ নিখোঁজ হন, কেউ প্রাণ হারান, আবার কেউ গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও বৈধভাবে থাকার অনুমতি না পাওয়ায় প্রত্যাবাসনের মুখে পড়েন।

ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাসের বার্তায় বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈধ ভিসা ছাড়া ইতালিতে প্রবেশের জন্য মানবপাচারকারী, দালাল বা চোরাকারবারিদের অর্থ দেওয়া বেআইনি বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের পরিণতিতে দেশে ফেরত পাঠানো এবং শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব, ভিসা, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। এতে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন আবারও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও বৈধ পথ বেছে নেওয়ার গুরুত্ব সামনে এনেছে। দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer