News Ticker
সর্বশেষ
‘শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না’ - মাহদী আমিন মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ-আগুনে ৪ মামলা, আসামি সাড়ে ১০ হাজার আন্দোলনে সহিংসতা-ভাঙচুর করতে ভাড়ায় লোক নিয়োগ হয়েছে, বলছেন শ্রমিক নেতারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধনে তৈরি পোশাক খাতে কিছু মালিক ও শ্রমিক নেতা অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করছে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘নতুন যুদ্ধ আগের চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা বারে মদ্যপান, প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধের পর হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীতে যান তাহসিফ ৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক এল নিনোর ভয়াবহ তাণ্ডব মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
221.png

‘শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না’ - মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪০

শেয়ার

শেয়ার

‘শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না’ - মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের এক ঐতিহাসিক দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও এই শিল্প বিকাশের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।
সেই ধারাবাহিকতায়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে, যেন তাঁরা উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।
গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে লাখ-লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাপ্লাই চেইন, এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য সেক্টরের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। সেই লক্ষ্যে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
আমরা বিশ্বাস করি, গঠনমূলক ও বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের একটি ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে। তবে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ ও আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে ভাঙচুর, কিংবা যানবাহন ও স্থাপনায় হামলার মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ও তাঁদের মাঝে অনুপ্রবেশ করে, পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য-প্রমাণ ইতোমধ্যে উঠে এসেছে।
মনে রাখতে হবে, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই। বাড়বে বেকারত্ব, কমবে রপ্তানি আয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনীতি। তাই একদিকে যেমন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি কোনোভাবেই সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে, ইনশাআল্লাহ।
সাধারণ শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের আহ্বান, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব বা উসকানিতে পা দেবেন না। গার্মেন্টস খাত ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমবান্ধব সরকার সবসময় পাশে থাকবে। কারণ এই শিল্পের অগ্রযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে গণমানুষের জীবন, জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।

আরও পড়ুন:

ChannelNRB Footer