বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটিই প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি।
তবে ৩০০ রানেই থামেননি হৃদয়। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৮১ বলে ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৩৫০ রান করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও নিজের করে নেন হৃদয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের NWU Oval-এ চার দিনের দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে ব্যাট করতে নেমে ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন হৃদয়।
দিনের খেলা শুরু করার সময় তাঁর নামের পাশে ছিল ২০৪ রান। আগের দিনই ক্যারিয়ারের প্রথম প্রথম শ্রেণির দ্বিশতক তুলে নিয়েছিলেন তিনি। শেষ দিনে ধীরে ধীরে তিনশর দিকে এগিয়ে যান এই ব্যাটার।
শেষ পর্যন্ত ৪৫১ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। এই মাইলফলক স্পর্শের পরও ব্যাট চালিয়ে যান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন।
হৃদয়ের এই অর্জনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার এর আগে দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় হৃদয় হলেন তৃতীয়। তাঁর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবাল। তবে তাঁদের দুজনের ট্রিপল সেঞ্চুরিই এসেছিল বাংলাদেশের মাটিতে।
২০০৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে রকিবুল হাসান করেছিলেন ৩১৩ রান। এরপর ২০২০ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগে তামিম ইকবাল অপরাজিত ৩৩৪ রান করে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছিলেন।
হৃদয় সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেলেন।
ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরও থামেননি হৃদয়। তাঁর ব্যাটে তখন বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের হাতছানি।
শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে তিনি তামিমের ৩৩৪ রানের রেকর্ড ভেঙে দেন। একই সঙ্গে রকিবুল হাসানের ৩১৩ রানও পেছনে পড়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এখন হৃদয়ের দখলে।
৩৫০ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায়। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৬৮ রান। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের অনন্য সমন্বয় দেখিয়েছেন তিনি।
হৃদয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ৬৭৬ রান সংগ্রহ করে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৫১২ রান।
ফলে হৃদয়ের ৩৫০ রানের ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ ‘এ’ পায় ১৬৪ রানের লিড। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান করার পর দুই দল ম্যাচটি ড্র মেনে নেয়।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ তাওহীদ হৃদয়। জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। এবার লাল বলের ক্রিকেটেও এমন অসাধারণ ইনিংস তাঁর টেস্ট সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে দীর্ঘ সময় ব্যাট করে ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পেস ও বাউন্সের জন্য পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে এত দীর্ঘ ইনিংস খেলতে প্রয়োজন হয় অসাধারণ ধৈর্য ও টেকনিক্যাল দক্ষতার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালও হৃদয়ের এই অর্জনের প্রশংসা করেছেন। নিজের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে তিনি এটিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন:







